
কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি বিএম আলামিন
পৃথিবীর আলো দেখেছে মাত্র দেড় মাস আগে। অসুস্থ হয়ে জ্বর আর শ্বাসকষ্টে ছটফট করছিল ছোট্ট মুয়াজ আব্দুল্লাহ। বুকভরা আশা নিয়ে স্বজনেরা তাকে নিয়ে ছুটেছিলেন কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ভেবেছিলেন, হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা সেবা পেয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে গিয়ে সময়মতো চিকিৎসক পাননি তাঁরা। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে দেড় মাসের নিষ্পাপ শিশুটি।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। মুয়াজের মৃত্যুকে ঘিরে সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। সংকটের কারণে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে মেডিকেল অফিসার শূন্য ছিল জরুরি বিভাগ।মুয়াজের মামা রাকিব হাসান জানান, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। জরুরি বিভাগে গিয়ে তাঁরা কোনো মেডিকেল অফিসার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট মামুন বাইরের ওষুধের দোকান থেকে দুটি ওষুধ আনতে বলেন। ওষুধ আনার পর শিশুটিকে নেবুলাইজেশন দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক এসে দেখবেন বলে তাঁদের জানানো হয়।রাকিব হাসানের অভিযোগ, চিকিৎসকের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় পার হলেও তাঁরা চিকিৎসকের দেখা পাননি। একপর্যায়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। একপর্যায়ে একজন নারী চিকিৎসক এসে মৃত্যু ঘোষণা করেন। তাঁর প্রশ্ন, সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পরও কেন সময়মতো চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো গেল না? দ্রুত চিকিৎসা পেলে মুয়াজকে বাঁচানো যেত কি না, সেই প্রশ্নও এখন স্বজনদের মনে।কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, শিশুটিকে জরুরি বিভাগে আনার পর দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট মামুন নেবুলাইজেশনের ব্যবস্থা করেন। তখন রাতের দায়িত্ব শেষে সকালে ডা. ইমরান হাসপাতালের চিকিৎসকদের কক্ষে যান এবং পরে বহির্বিভাগে অবস্থান করছিলেন।স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিতে কয়েকজন চিকিৎসক ছুটিতে থাকায় চিকিৎসক ইমরানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছিল। শিশুটির অবস্থা ভালো না থাকায় নেবুলাইজেশনের পর তাকে চিকিৎসক ইমরানের কাছে বহির্বিভাগে নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু চিকিৎসক কোন কক্ষে আছেন, তা স্বজনেরা বুঝতে পারেননি। অন্যদিকে, চিকিৎসক ইমরানও শিশুটির বিষয়ে অবগত ছিলেন না।মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট মামুন বাচ্চা দেখার পর কোন ডাক্তারকে অবগত না করেই আউটডোরে পাঠিয়ে দেয় উল্লেখ করে তিনি জানান, চিকিৎসকেরা হাসপাতালে উপস্থিত থাকলেও স্বজনদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গাফিলতি হয়েছিল। একপর্যায়ে পরের শিফটের ডা. তমালিকা এসে দেখেন শিশুটি মারা গেছে।ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
